সিটিটাচের নতুন অভিজ্ঞতা | Citytouch User Experience Review
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল সেবার প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তবতায় সিটি ব্যাংক তাদের ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম সিটিটাচকে নতুন রূপে উপস্থাপন করেছে। গত ২৯ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া আপগ্রেশন কর্মসূচি শেষ হয় ২১ শে জুন ২০২৬ তারিখে।
"অল-নিউ সিটিটাচ" নামে উন্মোচিত এই সংস্করণে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ডিজাইন, উন্নত ইউজার ইন্টারফেস এবং বেশ কিছু নতুন ও আপডেটেড ডিজিটাল সুবিধা।
বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও গতিশীল হচ্ছে। সিটিটাচ দীর্ঘদিন ধরেই আধুনিক ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে সাম্পতিক সময়ে ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমটিবি নিও এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের ইবিএল স্কাই ব্যাংকিং-এর মতো অ্যাপগুলো আধুনিক ইন্টারফেস ও উন্নত ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সিটিটাচের সর্বশেষ আপগ্রেড কেবল একটি নকশাগত পরিবর্তন নয়, বরং গ্রাহক অভিজ্ঞতা, সুবিধা এবং ডিজিটাল সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই আলোচনায় আমরা কোনো প্রচারণামূলক তথ্যের পরিবর্তে একজন বাস্তব ব্যবহারকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে আপডেট-পরবর্তী সিটিটাচের অভিজ্ঞতা, নতুন সুবিধা এবং সামগ্রিক মূল্যায়ন তুলে ধরব।
নতুন ইউজার ইন্টারফেস
Personalized new UI
নতুন সিটিটাচের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিঃসন্দেহে এর ডিজাইন ও ইউজার ইন্টারফেস। অ্যাপটি এখন অনেক বেশি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং প্রিমিয়াম অনুভূতি প্রদান করে। ব্যবহারকারীরা প্রথম দেখাতেই একটি আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের অভিজ্ঞতা পাবেন। গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী অ্যাপের থিম লাইট অথবা ডার্ক মুডে পরিবর্তন করতে পারবেন।
এখানে একটি বিষয় না বললেই নয়, লগইন স্ক্রিনে ভিডিও অ্যানিমেশন ব্যবহারের কারণে কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপটি তুলনামূলক ধীরগতির মনে হতে পারে। আমরা যদি লক্ষ্য করি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অ্যাপ্লিকেশনে লগইন ইন্টারফেসে একইভাবে আমাদের জাতীয় সংসদ ভবনের একটি ভিডিও এনিমেশন জুড়ে দেয়া হয়েছে। তবে এটি অনেক ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি করতে সক্ষম, এর বিপরীত অভিরচির কারো বিরক্তির কারণও হতে পারে। তাই লগইন ইন্টারফেসের এনিমেশন বন্ধ বা চালু করার অপশন রাখলে আরো ভালো হতো। ঠিক যেমনটা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের রয়েছে
ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট ওপেনিং
Digital account opening through citytouch
কয়েক মিনিটে ডিজিটালভাবে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। নতুন প্রজন্মের গ্রাহকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তবে এখনও কিছু সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের শাখায় যেতে হয়। ফলে ডিজিটালভাবে অ্যাকাউন্ট খোলার পরও কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি সিটি ব্যাংক এই সেবাকে শতভাগ পেপারলেস ও শাখামুক্ত করতে পারে, তাহলে গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে।
ইনস্ট্যান্ট লোন
Instant Loan through citytouch
"Access instant loans tailored for you" ধরনের প্রচারণা অনেক গ্রাহকের কাছে নতুন ধরনের ডিজিটাল বা ন্যানো লোন সুবিধার ধারণা তৈরি করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে সিটিটাচে যে লোন সুবিধাগুলো দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে:
- অ্যাডভান্স স্যালারি লোন
- কুইক লোন
অ্যাডভান্স স্যালারি লোন মূলত সিটি ব্যাংকের স্টাফ/ বিশেষ ক্যাটাগরির সেলারি পার্সনদের জন্য। অন্যদিকে কুইক লোন মূলত এফডিআর বা ডিপিএসের বিপরীতে প্রদান করা একটি সিকিউরড লোন, যেখানে গ্রাহকের নিজস্ব আমানতের একটি অংশ লিয়েন রেখে ঋণ গ্রহণ করা যায়।
অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো সংযোজন নয়। তাই প্রচারণা দেখে যে ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে, বাস্তব অভিজ্ঞতা তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভবিষ্যতে যদি প্রকৃত অর্থে ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ বা প্রি-অ্যাপ্রুভড পার্সোনাল লোন যুক্ত করা হয়, তাহলে এই ফিচারটি আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যে ঢাকা ব্যাংক ই-ঋণ (e-rin) নামে ইনস্ট্যান্ট ক্ষুদ্র লোন একটি ফিচার তাদের প্লাটফর্মে সংযুক্ত করেছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সিটি ব্যাংক ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবহৃত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ইনস্ট্যান্ট ন্যানো লোন সেবা প্রদান করছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সেই অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতার আলোকে অনেক গ্রাহকের স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকবে যে ভবিষ্যতে একই ধরনের ডিজিটাল ঋণসুবিধা সরাসরি সিটিটাচ প্ল্যাটফর্মেও যুক্ত হবে। যদি কোনো নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতা বা কারিগরি প্রতিবন্ধকতা না থাকে, তাহলে এ ধরনের একটি সংযোজন সিটিটাচের ডিজিটাল সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং গ্রাহকদের জন্য আরও পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বিকাশ-সিটি ব্যাংক ডিজিটাল লোন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন....
রিওয়ার্ড পয়েন্ট Earn reward points on transactions
লেনদেনের বিপরীতে রিওয়ার্ড পয়েন্ট প্রদানের উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারে উৎসাহিত করবে। তবে কোন ধরনের লেনদেনে কত পয়েন্ট পাওয়া যাবে, সেই পয়েন্টের আর্থিক মূল্য কত এবং কীভাবে তা ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করলে গ্রাহকরা সুবিধাটি আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন।
সিটিএআই বাংলা ও ইংরেজি চ্যাটবট সাপোর্ট
Get instant AI chatbot support in Bangla & English
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় এআই চ্যাটবট সংযোজন সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে বর্তমান অবস্থায় সিটিএআই এর তথ্যভান্ডার এখনও সীমিত বলেই মনে হয়েছে। অনেক সাধারণ প্রশ্নের ক্ষেত্রেও এটি সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে কল সেন্টারের নম্বর বা সাধারণ নির্দেশনা প্রদান করছে।
একজন গ্রাহকের দৈনন্দিন ব্যাংকিং প্রশ্নের দ্রুত সমাধান দিতে সক্ষম হতে হলে সিটিএআইকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও বুদ্ধিমান করে তুলতে হবে। সঠিকভাবে উন্নয়ন করা গেলে ভবিষ্যতে এটি গ্রাহক সেবার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
বাজেট ম্যানেজমেন্ট ও এক্সপেন্স ট্র্যাকিং
Track expenses, manage budgets & explore finance insights
ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাজেট পরিকল্পনা এবং ব্যয় পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিটিটাচ বর্তমানে লেনদেনের ধরন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যয়ের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে। তবে ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই ক্যাটাগরি পরিবর্তন করতে পারেন না। এছাড়া ব্যক্তিগত আয় বা অতিরিক্ত আর্থিক তথ্য যুক্ত করার সুযোগও নেই।
ফলে আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই ফিচারটি এখনও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে থাকা কিছু প্রতিযোগী ব্যাংকের অ্যাপ, বিশেষ করে এমটিবি ও ব্যাংক এশিয়ার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এই ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে আরও উন্নত সুবিধা প্রদান করছে।
ইন-অ্যাপ ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট
Raise & track disputes in-app
লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ বা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সরাসরি অ্যাপ থেকে অভিযোগ জানানো এবং তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগটি অত্যন্ত ইতিবাচক সংযোজন। এর ফলে কল সেন্টারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমবে এবং গ্রাহকরা আরও সহজে সমস্যার সমাধান অনুসরণ করতে পারবেন।
পিন-ভিত্তিক ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স
Receive PIN-based inward remittance to your account
পিন ভিত্তিক ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণের সুবিধাটি নতুন সিটিটাচের অন্যতম ইতিবাচক সংযোজন।
প্রক্রিয়াটি সহজ এবং গ্রাহকবান্ধব মনে হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সেবার প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে রেমিট্যান্স নিষ্পত্তির গতি, নির্ভরযোগ্যতা এবং সেবার ধারাবাহিকতার ওপর।
সিটিটাচের নতুন সংস্করণে যেসব ফিচার এখনও অনুপস্থিত
Key Features Still Missing from the New Citytouch Experience
সিটিটাচের নতুন সংস্করণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নয়ন ও নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ করেছে। তবে একজন স্বতন্ত্র ব্যবহারকারী হিসেবে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচারের অনুপস্থিতি রয়েছে এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন ও পরিমার্জনের সুযোগ আছে। এসব বিষয় ভবিষ্যৎ আপডেটে বিবেচনায় আনা হলে সিটিটাচ নিঃসন্দেহে আরও পরিপূর্ণ, কার্যকর এবং গ্রাহককেন্দ্রিক ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
ডেবিট কার্ড আনব্লক সুবিধার অনুপস্থিতি
Unavailability of Debit Card Unblock Feature
সিটিটাচের নতুন সংস্করণে ডেবিট কার্ড সাময়িকভাবে ব্লক করার সুবিধা থাকলেও অ্যাপ থেকেই পুনরায় আনব্লক করার সুযোগ এখনও নেই। ফলে গ্রাহকদের বাধ্য হয়ে কল সেন্টারের সহায়তা নিতে হয়, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তোলে। বিশেষ করে যখন একই অ্যাপ থেকে ফান্ড ট্রান্সফার, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্ট, এফডিআর ও ডিপিএস খোলা বা বন্ধ করা, এমনকি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব, তখন একটি ডেবিট কার্ড আনব্লকের মতো তুলনামূলক সাধারণ অনুরোধ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রহণ না করার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়। নিরাপত্তাজনিত কারণের যুক্তি এখানে খুব শক্তিশালী বলে মনে হয় না, কারণ এর চেয়েও সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সেবা ইতোমধ্যেই অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। একজন গ্রাহক হিসেবে তাই মনে হয়, এই সীমাবদ্ধতা দূর করে অ্যাপের মধ্যেই নিরাপদ উপায়ে কার্ড আনব্লকের সুবিধা যুক্ত করা হলে ব্যবহারকারীর ভোগান্তি কমবে এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা আরও পরিপূর্ণ হবে।
সিটিটাচের নতুন সংস্করণে ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন দেখা যায়নি। ভার্চুয়াল কার্ড অ্যাক্টিভেশন এবং পিন রিসেট সুবিধা এখনও অনুপস্থিত। বর্তমানে গ্রাহকরা অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারলেও ভার্চুয়াল কার্ডের মতো একটি ডিজিটাল পণ্যের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অ্যাপের মধ্যেই পাওয়া যায় না। কোনো কারণে কার্ড অ্যাক্টিভ করা বা পিন পুনঃসেট করার প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রত্যাশিত সুবিধার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই নিরাপদ যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যাপ থেকেই ভার্চুয়াল কার্ড অ্যাক্টিভেশন এবং পিন রিসেট সুবিধা চালু করা হলে গ্রাহকদের জন্য সেবাটি আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ, সুবিধাজনক এবং ব্যবহারবান্ধব হয়ে উঠবে।
সিটিটাচের নতুন সংস্করণে সামগ্রিক পারফরম্যান্স আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অ্যাপের ওপেনিং টাইম কমানো এবং বিভিন্ন ফিচারের মধ্যে দ্রুত ও স্মুথ নেভিগেশন নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত অপটিমাইজেশনের প্রয়োজন অনুভূত হয়। একটি আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ হিসেবে ব্যবহারকারীরা দ্রুত লোডিং, তাৎক্ষণিক রেসপন্স এবং নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা প্রত্যাশা করেন। তাই পারফরম্যান্স অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে অ্যাপটিকে আরও গতিশীল ও ব্যবহারবান্ধব করে তোলা যেতে পারে।
সুতরাং, সিটি ব্যাংকের নতুন সিটিটাচ নিঃসন্দেহে তাদের ডিজিটাল ব্যাংকিং যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। নতুন ডিজাইন, উন্নত নেভিগেশন, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট ওপেনিং, ইন-অ্যাপ ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট এবং রেমিট্যান্স সুবিধা গ্রাহক অভিজ্ঞতাকে আরও আধুনিক করেছে।
তবে একই সঙ্গে কিছু ফিচারের ক্ষেত্রে প্রচারণা ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্যও চোখে পড়ে। বিশেষ করে ইনস্ট্যান্ট লোন, সিটিএআই এবং পার্সোনাল ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট অংশগুলোতে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।
সবকিছু বিবেচনায় নতুন সিটিটাচ একটি উল্লেখযোগ্য আপগ্রেড। তবে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকিং ইকোসিস্টেমে পরিণত করতে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে সিটিটাচ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
