জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহায়তা কেন্দ্র | Consumer Rights Protection Helpline (DNCRP)
ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা গ্রহণের সময় কোনো গ্রাহক যদি প্রতারণা, অতিরিক্ত চার্জ, বিভ্রান্তিকর তথ্য, সেবাগত অবহেলা বা অন্যায্য আচরণের শিকার হন, তাহলে তিনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। তবে এ বিষয়টি অনেকেরই অজানা রয়েছে। অনেকের ধারণা, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমেই জানাতে হয়। প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশ ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সকল তফসিলি ব্যাংকগুলো এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের রেগুলেটরি অথরিটি।
তবে, বাংলাদেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে হয়। তাই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা অন্যান্য আর্থিক সেবা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অভিযোগও প্রয়োজন অনুযায়ী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে উত্থাপন করা যেতে পারে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ব্যাংকিং ও আর্থিক বিষয়ক কী ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করা যেতে পারে:
▣ অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত চার্জ বা ফি আদায়
▣ প্রতিশ্রুত সেবা না পাওয়া
▣ বিভ্রান্তিকর তথ্য বা শর্ত গোপন করা
▣ সেবাগত অবহেলা বা গ্রাহক হয়রানি
▣ অফার, ক্যাশব্যাক বা আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত প্রতারণা
অভিযোগ করার পূর্বে একজন সচেতন গ্রাহক হিসেবে আপনার করণীয়:
প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্রাঞ্চ, কল সেন্টার বা কমপ্লেইন্ট সেলে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করুন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান পর্যায়েই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। দুর্ভাগ্যবশত যদি সেখান থেকে আপনার অভিযোগের কোন সুরাহা না পান, বা তাদের শুরু হয় যদি আপনার কাছে অন্যায্য বলে মনে হয় এবং উক্ত অভিযোগটি যদি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভোক্তাদের যে সকল অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয় যদি তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে গ্রাহক লিখিত আবেদন, হটলাইন, ই-মেইল বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। অভিযোগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্ট, ট্রানজেকশন তথ্য, এসএমএস, ই-মেইল বা অন্যান্য প্রমাণ সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
যেভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করবেন :
অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৭৬ (১) অনুযায়ী, “যে কোন ব্যক্তি, যিনি, সাধারণভাবে একজন ভোক্তা বা ভোক্তা হইতে পারেন, এই অধ্যাদেশের অধীন ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য সম্পর্কে মহাপরিচালক বা এতদুদ্দেশ্যে মহাপরিচালকের নিকট ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিয়া লিখিত অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন।”
